শবে বরাত অর্থ কি?
শবে বরাতের ফজিলত, করণীয় ও বর্জনীয়: শবে বরাত (Shab-E-Barat) ফার্সি শব্দ। শব অর্থ রাত আর বরাত অর্থ মুক্তি। শবে বরাত অর্থ মুক্তির রাত। যেহেতু সহিহ হাদিস অনুযায়ী এই রাতে মুশরিক ও হিংসুক ব্যতীত সকল ঈমানদার-মুসলমানকে ক্ষমা করা হয়। তাই এই রাতকে শবে বরাত বলে।

শবে বরাত কাকে বলে?
হিজরী শাবান মাসের ১৪ ই শাবান দিবাগত রাতকে শবে বরাত বলে। আমরা যেটাকে শবে বরাত বলি সহিহ হাদিসে সেটাকে লাইলাতুন নিসফি মিন শাবান বলা হয়েছে। তবে শবে বরাত বলা নাজায়েজ না। আমরা যেমন সালাতকে নামাজ বলি সাওমকে রোজা বলি তেমনি লাইলাতুন নিসফি মিন শাবান কে শবে বরাত বলা যায়। লাইলাতুল নিসফি মিন শাবান অর্থ শাবান মাসের মধ্য রজনী/রাত। এক কথায় বলতে গেলে শাবান মাসের মধ্য রাতকে শবে বরাত বলে।
শবে বরাত কখন?
শবে বরাত যেটাকে হাদিসে বলা হয়েছে মধ্য শাবানের রাত অর্থাৎ শাবান মাসের মধ্যে রজনী। ১৪ ই সাবান দিবাগত রাত ই শবে বরাত। উপমহাদেশে শবে বরাত বা মুক্তির রাত বলে। হাদিসে শবে বরাতকে লাইলাতুন নিসফি মিন শাবান বলা হয়েছে। তবে শবে বরাতের পরিবর্তে লাইলাতুন নিসফি মিন শাবান বলাটা সুন্নাহ।
আরও পড়ুন: কুরআন ও হাদিসের আলোকে ভালো মানুষদের গুণাবলী
শবে বরাতে কাদের ক্ষমা করা হয়?
শবে বরাতের রাতে মহান আল্লাহ তা’আলা মুশরিক (অর্থাৎ আল্লাহর সাথে শরিককারী), হিংসুটে, বিদআতি, যারা সুন্নাহ মেনে চলতে চায় না এমন লোকেরা ছাড়া বাকি সব ঈমানদারদের জন্য সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করেন। আল্লাহর সাধারণ ক্ষমা পাওয়ার জন্য শবে বরাত অর্থাৎ মধ্য শাবানে আপনাকে হিংসা-বিদ্বেষ মুক্ত ঈমানদার হতে হবে। এক কথায়, মুশরিক এবং হিংসুক ছাড়া এই রাতে সকল ঈমানদার মুসলমানকে আল্লাহ তাআলা ক্ষমা করে দিবেন। ইনশাআল্লাহ।
শবে বরাতের আল্লাহ তাআলার ক্ষমা পেতে করণীয়
- অবশ্যই ঈমানদার-মুসলিম হতে হবে।
- কারো প্রতি হিংসার বিদ্বেষ থাকলে তা পরিহার করতে হবে। হিংসুটে মনোভাব মুক্ত হতে হবে।
- কারো সাথে শত্রুতা থাকলে তা পরিহার করতে হবে।
- বিদআত থেকে মুক্ত থাকতে হবে।
শবে বরাতের আমল বা করণীয়
- সুন্নত ও নফল আমল করা যাবে।
- একাকী আমল গুলো দলবদ্ধভাবে করা থেকে বিরত থাকতে হবে।
- মসজিদে এসে দলবদ্ধভাবে কোন আমল যা হাদিসে উল্লেখ নেই এমন কিছু করা যাবে না।
শবে বরাতের বর্জনীয়
- হিংসা-বিদ্বেষী মনোভাব পরিহার করুন।
- হালুয়া-রুটি আরো অন্যান্য রীতি-রেওয়াজ থেকে বিরত থাকতে হবে। (এই দিন বাদে আপনি অন্য কোনদিন হালুয়া-রুটি-গোশত খান এই দিনে কেন খাবেন?)।
- কারো সাথে শত্রুতা থাকলে তা বর্জন করুন।
- কুরআন সুন্নাহ পরিপন্থী কাজ থেকে বিরত থাকুন।
- বিদআত যুক্ত আমল ত্যাগ করুন।
শবে বরাতের রাতে কি ভাগ্য লেখা হয়?
অনেকে মনে করেন শবে বরাতের রাতে ভাগ্য লেখা হয়। এটা আসলে ভিত্তিহীন। বরঞ্চ শবে বরাত অর্থ মুক্তির রাত। অর্থাৎ, এই রাতে মহান আল্লাহ তাআলা সকল ঈমানদার মুসলিমকে ক্ষমা করে দেন। এই রাতে ভাগ্য লেখা হয় না বরং শবে কদরের রাতে ভাগ্য লেখা হয়।
আরও পড়ুন: যে সাত শ্রেণির মানুষ আল্লাহর আরশের ছায়ায় স্থান পাবে
মন্তব্য
সহিহ হাদিসে এই রাতের কোন আমলের উল্লেখ নেই তবে দয়িফ (দুর্বল) হাদিসে এই রাতে তিনটি আমলের উল্লেখ পাওয়া যায় সেগুলো হলো:
- কবর জিয়ারত করা।
- সালাত আদায় করা।
- দোয়া করা।
যেহেতু এই রাতের ফজিলত সহিহ তাই, কেউ যদি অন্যান্য রাতে তাহাজ্জুদ পড়েন তাহলে এই রাতে একটু বেশি পড়তে পারেন, অন্যান্য রাতে দোয়া করে থাকেন তাহলে এই রাতে একটু বেশি করতে পারেন। কোন কোন আলেম একে মুস্তাহাব, জায়েজ বা বৈধ মনে করেন। এই আমলগুলো বিদআত বা নাজায়েজ হবে না ইনশাআল্লাহ। তবে এই রাতে দলবদ্ধভাবে বা মসজিদে গিয়ে কোন আমল করা ঠিক নয় সকল ইমামের মতে এটা বিদআত ও বাড়াবাড়ি।
শাইখ আহমাদুল্লাহ ও ড. খন্দকার আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর স্যারের ভিডিও থেকে।



