মানুষ খুব আশা ভরসা করে একটি জমি বা প্লট কিনে থাকে। কেউ নিজের পুরো জীবনের উপার্জন দিয়ে আবার কেউ তিল তিল করে সঞ্চয় করা অর্থ দিয়ে একটি জমি বা প্লট কিনে। কখনো কখনো দালাল বা কুচক্র মহলের খপ্পরে পড়ে সব খুইয়ে বসে। তাই জমি বা প্লট কেনার আগে আপনার কিছু বিষয় জানার জরুরী। এই বিষয়গুলো জানলে আপনি সহজে জমি কেনা এবং জমির মালিকানা সঠিক কিনা জানতে পারবেন। এই ব্লগে উল্লেখিত বিষয়গুলো আমাদের নিজেদের স্টাডি থেকে অর্জিত আমরা কোন আইনজীবী থেকে এগুলো গ্রহণ করিনি।

জমি কেনার আগে যেসব বিষয় জানা জরুরী – Things To Know Before Buying A Land
জমির বিক্রেতার মালিকানা চেক করা
জমি বা প্লট কেনার আগে আপনাকে অবশ্যই বিক্রেতার মালিকানা চেক করে নিতে হবে। জমি বিক্রেতা জমির আসল মালিক কিনা সেটা সবার আগে দেখে নিতে হবে। আর দেখতে হবে জমিটি তিনি কিনেছেন নাকি উত্তরাধিকার সূত্রে অর্জন করেছেন।
জমির মালিকানার প্রমাণ সংগ্রহ এবং খতিয়ে দেখা
জমির মালিকানা দেখার পর জমির মালিকানার প্রমাণস্বরূপ একসেট কাগজপত্র সংগ্রহ করে উপযুক্ত ব্যক্তি যেমন আইনজীবী বা সার্ভেয়ারের মাধ্যমে খতিয়ে দেখতে হবে। এছাড়া জমিটি তিনি কিভাবে কখন কিনেছেন তা জানতে হবে। জমির কাগজপত্র যেমন খতিয়ান, নামজারি, জরিপ এসব অবশ্যই চেক করে নিবেন।
সাব-রেজিস্ট্রি অফিস থেকে তল্লাশি বা চেক করা
জমির কাগজপত্র সার্ভেয়ার বা দলিল লেখক বা আইনজীবীর মাধ্যমে চেক করার পর কাগজপত্রগুলো সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে গিয়ে পুনঃ চেক করে নিতে হবে। এক্ষেত্রে অবশ্যই উপযুক্ত ব্যক্তিকে সাথে নিয়ে যেতে হবে।
সর্বশেষ খতিয়ান কার নামে তা যাচাই
আপনি যার কাছ থেকে জমি কিনবেন তার নামে খতিয়ান আছে কিনা তা অবশ্যই চেক করে দেখবেন। তা না হলে পরবর্তীতে ঝামেলা তৈরি হতে পারে। জেনে রাখা প্রয়োজন খতিয়ান দুই ধরনের। ১. নামজারি খতিয়ান, ২. রেকর্ডীয় খতিয়ান। আপনার কাছে যিনি জমি বিক্রি করছেন তার নামে খতিয়ান আছে কিনা তা দেখে যাচাই-বাছাই করে নিবেন।
লিগ্যাল নোটিশ প্রদান
জমি কেনার আগে যাচাই-বাছাইয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হলো লিগ্যাল নোটিশ প্রদান। জমি কেনার আগে পত্র-পত্রিকায় লিগ্যাল নোটিশ প্রদান করতে পারেন। এতে করে পরবর্তীতে জমি নিয়ে কোন ঝামেলা হলে প্রমাণস্বরূপ কোর্টে এই লিগ্যাল নোটিশ পেশ করতে পারবেন। তাছাড়া জমিটি কারো কাছে যদি আগে বিক্রয়, বায়না বা চুক্তির অন্তর্ভুক্ত থাকে তাহলে তা লিগ্যাল নোটিশ প্রদানের ফলে প্রকাশ্যে আসার সম্ভাবনা রয়েছে।
ভূমি উন্নয়ন কর ও খাজনা পরিশোধ কিনা তা খতিয়ে দেখা
আপনি যে জমিটি ক্রয় করতে চাচ্ছেন সেই জমির ভূমি উন্নয়ন কর ও খাজনা পরিশোধ আছে কিনা তা যাচাই-বাছাই করে নিতে হবে। তা না হলে জমি কেনার পর আপনাকে ভূমি উন্নয়ন কর ও খাজনা পরিশোধ করতে হবে।
জমি বা প্লট বিক্রেতার দখলে কিনা তা যাচাই
আপনি যে জমিটি কিনতে চাচ্ছেন তা জমি বিক্রেতার দখলে আছে কিনা তা যাচাই করে দেখুন। জমি বিক্রেতার দখলে না থাকলে আপনি সমস্যার সম্মুখীন হতে পারেন। তাছাড়া জমি বিক্রেতার দখলে না থাকলে ক্রয় না করাই উত্তম।
জমি কোন প্রতিষ্ঠানের নিকট দায়বদ্ধ বা বন্ধক রাখা আছে কিনা যাচাই
আপনি যে জমিটি কিনতে চাচ্ছেন তা কোন প্রতিষ্ঠান যেমন ব্যাংক, বীমা এনজিও ইত্যাদি প্রতিষ্ঠানের কাছে বন্ধক রাখা আছে কিনা তা যাচাই করতে হবে। না হলে জমি কিনে বড় ঝামেলায় পড়তে পারেন।
সম্পত্তি পরিত্যক্ত বা বাজেয়াপ্ত কি না যাচাই
যে জমিটি আপনি কিনতে চাচ্ছেন তা সরকার কর্তৃক পরিত্যক্ত বা বাজেয়াপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে কিনা তা খতিয়ে দেখতে হবে।
মামলা মোকদ্দমা যাচাই-বাছাই
যে জমিটা আপনি কিনতে চাচ্ছেন সেটার নামে কোন মামলা-মোকদ্দমা আছে কিনা তা খোঁজ-খবর নিয়ে দেখতে হবে। নতুবা বড় কোন সমস্যায় পড়তে পারেন এ বিষয়গুলো ভূমি অফিসে বা ভূমি রেকর্ড অফিসে পাওয়া যেতে পারে।
জমিতে যাতায়াতের জন্য রাস্তা আছে কিনা তা যাচাই
এটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। জমি কেনার আগে অবশ্যই দেখতে হবে জমিতে যাতায়াতের জন্য রাস্তা আছে কিনা বিশেষ করে যদি ঘর-বাড়ি করার জন্য জমি কিনে থাকেন তাহলে অবশ্যই রাস্তা থাকতে হবে।
জমির বিক্রয় বা উত্তরাধিকার বন্টন সঠিক হয়েছে কিনা তা যাচাই
জমি কেনার আগে দেখতে হবে জমিটি বিক্রেতা উত্তরাধিকার সূত্রে পেয়েছেন নাকি তিনি তা কারো কাছ থেকে ক্রয় করেছেন। যদি উত্তরাধিকার সূত্রে পেয়ে থাকেন তাহলে জমিটির বন্টন সঠিক হয়েছে কিনা তা অবশ্যই যাচাই করুন। তা না হলে জমি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ আপনার নামে মামলা করতে পারে এতে আপনি ঝামেলার সম্মুখীন হতে পারেন।
আরও পড়ুন: কুরআন ও হাদিসের আলোকে ভালো মানুষদের গুণাবলী
যে কোন জমি কেনার পূর্বে উপরোক্ত বিষয়গুলোর প্রতি খেয়াল রাখলে অনেকটাই নিশ্চিন্তে থাকা যাবে। বিষয়গুলো আমরা বিভিন্ন মাধ্যম থেকে সংগ্রহ করে একত্র করেছি।



