সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যাসহ ঈমান ভঙ্গের বা ইসলাম থেকে বেরিয়ে যাওয়ার কারণসমূহ
রাসুলুল্লাহ (সাঃ) ইরশাদ করেনঃ “অন্ধকার রাতের মত ফিতনা আগমনের পূর্বেই তোমরা নেক আমলের প্রতি অগ্রগামী হও। যে সময় কোনো ব্যক্তি সকাল বেলায় মু’মিন থাকবে এবং রাতে কাফির হয়ে যাবে অথবা সে সন্ধ্যা বেলায় মু’মিন থাকবে এবং সকালে কাফির হয়ে যাবে। দুনিয়াবি স্বার্থের জন্য সে তার দ্বীন বিক্রি করে দিবে।’ [রেফারেন্স: সহিহ মুসলিম; কিতাবুল ঈমান: ১১৮]

ঈমান ভঙ্গের কারণসমূহ বা ঈমান ভঙ্গের ১০ কারণ – মুখতাসার শারহু নাওয়াকিদিল ঈমান
০১. শিরক
০২. সংশয়ের কুফর
০৩. অস্বীকারের কুফর
০৪. রিদ্দাহ (আদর্শ ত্যাগের কুফর)
০৫. অপছন্দের কুফর
০৬. বিদ্রূপের কুফর
০৭. সিহর-যাদু
০৮. সমর্থনের কুফর
০৯. অবাধ্যতার কুফর
১০. বিমুখতার কুফর
আমরা অনেকেই অযু, সালাত, সাওম ভঙ্গের কারণ জানলেও ঈমান ভঙ্গের কারণ জানি না, অথচ এটা তুলনামূলকভাবে দ্বীনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ।
কোনো ব্যক্তি ঈমান ভঙ্গকারী কোনো বিষয়ে লিপ্ত হয়ে পড়লে, সে যদি খাঁটি অন্তরে তাওবাহ করে কালিমায়ে শাহাদাত পড়ে পুনরায় ঈমান নবায়ন না করে, এবং এই অবস্থাতেই মৃত্যু বরণ করে, তাহলে সে কাফির/মুশরিক হিসেবে মৃত্যু বরণ করলো। এবং সে কখনোই ক্ষমা পাবে না, কখনোই জাহান্নাম থেকে বের হতে পারবে না।
একটি সতর্কবার্তা: এখানে শুধু বিধান বর্ণনা করা হয়েছে, বাস্তবেই নির্দিষ্ট কাউকে কাফির বলার ক্ষেত্রে শারঈ ওজর সমূহ যাচাই করে আলিমগণ রায় দিবেন। তাকফিরের মূলনীতি, অভিযুক্ত ব্যক্তির কুফরী এবং ব্যক্তির ওজর সম্পূর্ণ নিশ্চিত না হলে বা বিন্দুমাত্র সন্দেহ থাকলে, কোনোভাবেই তাকফির করা যাবে না ।
ওজরের উদাহরণ- নির্যাতন করে বাধ্য করা, অনিচ্ছায়-অবচেতনে করে ফেলা, হুশ না থাকা/পাগল, নওমুসলিম অথবা চেষ্টা সত্ত্বেও জানতে না পারা ইত্যাদি। ওয়াল্লাহু ‘আলামু বিস সাওয়াব।
“নিশ্চয় আল্লাহ তাঁর সাথে শিরক (ও সমপর্যায়ের গুণাহ তথা বড় কুফর) করাকে ক্ষমা করেন না; আর তার থেকে ছোট যাবতীয় গুনাহ যাকে ইচ্ছা ক্ষমা করে দিবেন।” [ রেফারেন্স:সূরা আন-নিসা; ১১৬]
জাহান্নামবাসীরা যখন জান্নাতবাসীদের কাছে খাদ্য ও পানি চাইবে, তখন তারা উত্তরে বলবে, “নিশ্চয় আল্লাহ এ দুটি জিনিস কাফিরদের জন্য হারাম করে দিয়েছেন।”
[রেফারেন্স: সূরা আল-আরাফ; ৫০]
আরও পড়ুন: সূরা আল লাহাব বাংলা উচ্চারণ ও অর্থসহ
“নিশ্চয় কেউ আল্লাহর সাথে শরীক স্থাপন করলে, আল্লাহ তার জন্য জান্নাত অবশ্যই হারাম করে দিবেন এবং তার আবাস হবে জাহান্নাম।” [রেফারেন্স:সূরা আল মায়িদা; ৭২]
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম ঘোষণা করতে বলেছেন যে, “শুধু মুমিন মুসলিমরাই জান্নাতে যাবে।”
[রেফারেন্স: মুসলিম; ১১১]
∎ প্রথম নাক্বদ (ঈমান ভঙ্গকারী বিষয়): শিরক।
উদাহরণ: কাউকে আল্লাহ তাআলার সমকক্ষ মনে করা। তাঁর মহিমান্বিত সত্তা, গুণাবলী, ক্ষমতা ও কর্মের কোনো তুলনা দেওয়া বা শরিক স্থাপন করা ।
❏ সালাত, সাওম, হাজ, কুরবানি, মান্নত বা কোনো ইবাদাত আল্লাহ্ ব্যতিত অন্য কারোর সন্তুষ্টির জন্য করা অথবা কোনো মাখলুকের থেকে উপকার/প্রতিদান পাওয়ার নিয়তে করা অথবা মাখলুকের ভয়ে করা। যেমন- জ্বীনের ভয়ে জ্বীনকে খুশি করার উদ্দেশ্যে করা কিংবা মাজারে মান্নত-কুরবানি করা।
❏ আল্লাহ্ তাআলা ব্যতিত অন্য কারোর নিকটে দুআ-ফরিয়াদ করা, যেমন- বিপদে পড়ে গাউস, কুতুব, পীর, মৃতব্যক্তি, মূর্তি, জ্বীন-শয়তানের কাছে মুক্তি চেয়ে ফরিয়াদ করা।
❏ এমন কোনো কিছু করা যা শুধুমাত্র আল্লাহ্ তাআলার হক্ব বা এখতিয়ারাধীন। উদাহরণস্বরূপ – হালালকে হারাম বা নিষিদ্ধ করা, হারামকে হালাল করা বা বৈধতার লাইসেন্স দেওয়া। যেমন- সমকামীতা, ট্রান্সজেন্ডার, লিঙ্গ পরিবর্তন, মাদক, জুয়া, পতিতালয় ইত্যাদির লাইসেন্স দেওয়া অথবা বৈধ মনে করা।শাসন, রাষ্ট্র বা সমাজ থেকে শারিয়াহর মৌলিক বিধিবিধান পরিবর্তন/বাতিল/অপসারণ করা।
❏ কোনো মাখলুককে আল্লাহ তাআলার থেকে বেশি অথবা অনুরূপ ভয় করা কিংবা বেশি ভালোবাসাঅথবা কোনো মাখলুকের ওপর তাওয়াক্কুল করা- মাখলুকের নিকটে এমন কিছু চাওয়া ও আশা করা যা শুধুমাত্র আল্লাহ্ তা’আলা দিতে পারেন। যেমন- বৃষ্টি, ফসল, বারাকাহ, সন্তান-সন্ততি কোনো পীরের কাছে, জ্বীনের কাছে বা মাজারের কাছে আশা করা। নকশা-আবজাদ, তামিমা, রিং-আংটি, পাথর-মূর্তি, বালা-ব্রেসলেট, সিহর বা যাদুর মাধ্যমে উদ্ধার বা আরগ্যের চেষ্টা ও আশা করা ।
❏ আল্লাহ তাআলার এমন নাম ও গুণ মাখলুকের ক্ষেত্রে বলা অথবা বিশ্বাস করা যা সৃষ্টির ক্ষেত্রে কোনোভাবেই প্রযোজ্য নয়, যেমন- ‘আর রাজ্জাক’, ‘আল খালিক’, ‘আর রহমান’, ‘আলিমুল গায়িব’,এমন দাবি করা- কোনো মাখলুক গায়িবের ইল্ম রাখে, যেমনটা গণকেরা দাবি করে। ইত্যাদি শিরকে আকবার বা বড় শিরক যা ব্যক্তিকে ইসলাম থেকে বের করে দেয়।
❏ ছোট শিরক যেমন – রিয়া(লোক দেখানো আমল), সুমআত(আমলের কথা বলে বেড়ানো), আল্লাহ ব্যতিত অন্য কারোর নামে-কোন বস্তু ছুঁয়ে কসম করা, বিভিন্ন শিরকি বাক্য যেমন- “উপরে আল্লাহ্, নিচে আপনি”, “ঔষধে/ডাক্তার/দক্ষতায় জীবন বেঁচে গেল”, এছাড়া মঙ্গল অমঙ্গল সম্পর্কে প্রচলিতবিভিন্ন শিরকি প্রথা ও কথা বলা যেমন- ‘শনির দশা’। এগুলো ছোট-বড় উভয় শিরকই হতে পারে, আশা-আশংকার মাত্রা বা বিশ্বাসের ওপর নির্ভরশীল।
শিরক থেকে মুক্তির দূ’আ:
.اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ أَن أُشْرِكَ بِكَ وَأَنَا أَعْلَمُ، وَأَسْتَغْفِرُكَ لِمَا لَا أَعْلَمُ
হে আল্লাহ, আমি জ্ঞাতসারে শিরক করা থেকে আপনার আশ্রয় গ্রহণ করছি এবং অজ্ঞাতসারে যা ঘটে তার জন্যও আপনার কাছে ক্ষমা চাচ্ছি।[রেফারেন্স: সূরা তাওবা; ৩১, সুরা জ্বীন ৭২:১৮, সুরা বাকারা ২:১৬৫, সুরা যারিয়া’ত ৫১:৫৬, বাহরুর রায়েক ২/২৯৮, বাহরুর রায়েক শারহু কানযিদ দাকায়েক ৫/১৩৪; ফাতাওয়ায়ে বাযযাযিয়াহ ৩/৩২৬; মাজমাউল আনহুর শারহু মুলতাক্বাল আবহুর ১/৬৯৯; ফাতাওয়ায়ে হিন্দিয়া, খন্ড:৬, রদ্দুল মুহতার ২/৪৩৯-৪৪০, দারুল ফিকর, বাইরুত, মা-লা- বুদ্দা মিনহু, মাকতাবাতুর রহমানিয়াহ, লাহোর পৃ.১৩৮-১৩৯, মাজমুউল ফাতওয়া, খন্ড-৭, পৃঃ৭০, মাজমু’ আল-ফাতাওয়া ১০/২৫৭, কিতাবুত তাওহীদ,তাকবিয়াতুল ঈমান, আর রূহ, ১ম খন্ড, পৃঃ ২৫৪, আল জাওয়াবুল কাফি লিমান সাআলা আনিন দাওয়া ইশশাফি, পৃঃ ১৩৫।]
∎ দ্বিতীয় নাক্বদ (ঈমান ভঙ্গকারী বিষয়): সংশয়ের কুফর।
যে ব্যক্তি ইবাদাতের ক্ষেত্রে আল্লাহ ব্যতীত অন্য কাউকে (বা কোনো কিছুকে) মাধ্যম সাব্যস্ত করে, তাদেরকে ডাকে, তাদের নিকট সুপারিশ প্রার্থনা করে এবং তাদের ওপর ভরসা করে ; সকল উলামায়ে কিরামের ঐক্যমতে, সে শিরক করল।
বিপদ আপদে রাসুলুল্লাহকে অথবা কোন অলি আওলিয়াকে ডাকা অথবা কবর/মাজারে সিজদা/ মান্নত করে মৃত ব্যক্তির নিকটে সাহায্য চাওয়া অথবা তাদের নিকটে সুপারিশ চাওয়া অথবা তাদেরকে মাধ্যম সাব্যস্ত করে আল্লাহকে ডাকা; যেমনটি মক্কার মুশরিকরা করতো, তারা আল্লাহ্তা আলাকে বিশ্বাস করা সত্ত্বেও মূর্তিকে ইবাদাত, সুপারিশ ও সাহায্য পাওয়ার মাধ্যম হিসেবে সাব্যস্ত করতো। [রেফারেন্স: সূরা আয যুমার; ৩]
∎ তৃতীয় নাক্বদ (ঈমান ভঙ্গকারী বিষয়): অস্বীকারের কুফর।
কেউ কাফির-মুশরিকদেরকে কাফির মনে না করলে কিংবা তাদের কুফরী ও পরকালীন শাস্তিতে সন্দেহ পোষণ করলে অথবা তাদের ধর্ম বা মতবাদকে সঠিক মনে করলে, সকল উলামায়ে কিরামের ঐক্যমতে তারা কুফরি করল। এটা এমন কুফর যা ব্যক্তিকে ইসলাম থেকে বের করে দেয়। কাউকে তাকফির করার চারটি অবস্থাঃ (তাকফির অর্থ- কাউকে কাফির/মুরতাদ বলা ।
❏ ১. আসলি কাফির যেমন- ইয়াহুদি, খ্রিষ্টান, হিন্দু, বৌদ্ধদেরকে কোন ব্যক্তি তাকফির না করলে(অর্থাৎ কাফির না বললে), সেও মুরতাদ (ইসলাম থেকে খারিজ) হয়ে যাবে।
❏ ২. যে নিজেকে মুরতাদ দাবি করে বা ইসলামকে অস্বীকার করে, এমন ব্যক্তিদেরকে কাফির না মনে করলেও ঈমান ভঙ্গ হয়ে যাবে। যেমন: কেউ বললো- সে খ্রিষ্টান হয়ে গেছে অথবা বললো- সে ইসলাম নয় বরং সেক্যুলার/ধর্মনিরপেক্ষ, আইন/মতবাদে বিশ্বাসী অথবা নিজেকে নাস্তিক দাবি করে, এমন ধরনের মুরতাদকে যে কাফির মনে করে না, সেও কাফির বা মুরতাদ । [তাকফিরের বিষয়ে সতর্কতা নিয়ে শেষ পৃষ্ঠায় বলা হয়েছে]
❏ ৩. যারা নিজেদেরকে মুসলিম বলে, দ্বীন ইসলামকে সত্যায়ন করে, কিন্তু তাদের বিরুদ্ধে রিদ্দাহ/কুফরীর অভিযোগ রয়েছে, তাদেরকে তাকফির করার দায়িত্ব আহলে ইল্মের তথা উলামায়ে কিরামের ওপর ছেড়ে দিতে হবে, যারা তাকফিরের মূলনীতি সমূহ জানেন ও বুঝেন।
❏ ৪. যখন কুফরীর হুকুমে ইজতিহাদ/ইখতিলাফ থাকে, যেমন সালাত পরিত্যাগকারীর বিধান এবং অনুরূপ। এসকল বিষয়ের জন্য তাকফির করা/না করা মুজতাহিদ আলিম অথবা আলিমগণের শারঈ বোর্ডের ওপর ছেড়ে দিতে হবে।
[রেফারেন্স : সূরা তাওবা; ৩, বাইয়্যিনাহ; ৬, ইকফারুল মূলহীদীন, রিসালাতুল ইন্তিসার, আশ শিফা ২/২৮১, আদ-দুরার আস-সানিয়্যাহ, ১০/৪৪৩, আওছাকু-উরাল-ঈমান জিননা-মাজমুআতুত তাওহীদ, ১ম খন্ড, পৃঃ ১২০।]
∎ চতুর্থ নাক্বদ (ঈমান ভঙ্গকারী বিষয়): রিদ্দাহ (আদর্শ ত্যাগের কুফর)।
যে ব্যক্তি বিশ্বাস করে দ্বীন ইসলামের কোনো বিষয় বা বিধান থেকে অন্য কোন বিধান-মতবাদ উত্তম/সমকক্ষ/কল্যাণকর, তাহলে সে ব্যক্তি এমন কুফরি করল যা তাকে ইসলাম থেকে বের করে দেয়।
❏ আইন, চিন্তা-চেতনা, আদর্শ, ন্যায়-অন্যায়ের সংজ্ঞা ও ভিত্তি অবশ্যই ইসলাম থেকে গ্রহণ করতে হবে।
❏ আদালতে আল্লাহর বিধান ব্যতীত বিচারকারী নিম্নলিখিত ছয়টি অবস্থা থেকে মুক্ত নয়ঃ
(১) যে ব্যক্তি মুলত আল্লাহর বিধান অনুসারেই শাসন-বিচার করে, কিন্তু কোনো একটি বিষয়ে বাসমস্যায় ঘুষ, নিজ প্রবৃত্তি বা এমন কোনো কারণে আল্লাহর বিধান ব্যতীত অন্য কোনো বিধান দিয়ে বিচার ফয়সালা করে তাহলে তা কাবিরা গুনাহ কিংবা ক্ষেত্রেবিশেষে ছোট কুফর।
(২) নিজেই কিছু আইন প্রণয়ন করা এবং তা দিয়ে স্বেচ্ছায় বিচার ফয়সালা করা কুফর আকবার বা বড় কুফর।
৩) কুরআন সুন্নাহ ব্যতিত অন্য কোনো উৎস থেকে থেকে আইন গ্রহণ করা এবং স্বেচ্ছায় তা দিয়ে বিচার ফয়সালা করা এটা বড় কুফর। যেমনঃ মানবরচিত সংবিধান থেকে আইন গ্রহণ করা ও তা দিয়ে বিচার করা।
(৪) পূর্বে বিদ্যমান/অন্য ধর্ম ও সমাজে প্রচলিত/মানব রচিত বিচারব্যবস্থার নিয়ম-কানুন দ্বারা স্বেচ্ছায় বিচার ফয়সালা করা বড় কুফর।
(৫) বাধ্য হয়ে আল্লাহর শরি’য়াহ ব্যতিত ভিন্ন আইন দ্বারা বিচার ফয়সালা করা: জীবন-অঙ্গহানি-নির্যাতনে বাধ্য করা না হলে বড় কুফর, চাকরি-উপার্জন এগুলো ওজর হিসেবে গ্রহণযোগ্য নয়।
(৬) অজ্ঞতার কারণে আল্লাহর বিধান ব্যতিত বিচার ফয়সালা করা ইসলামী বিধিবিধান জানার চেষ্টা সত্ত্বেও, জানা সম্ভব না হলে অথবা ভুল জানলে তখন কুফর নয়; অন্যথায় বড় কুফর। চাকরি-জীবিকা এগুলো ওজর হিসেবে গ্রহণযোগ্য নয়।
**বড় কুফর (অর্থাৎ কুফর আকবার) হল- যা ইসলাম থেকে ব্যক্তিকে খারিজ করে দেয় অর্থাৎ ব্যক্তি মুরতাদ হয়ে যায়।
[রেফারেন্স : [আল-ইমরানঃ ১৯, আল ইমরানঃ ৮৫, সূরা ইউসুফ: ৪০, আল-মায়’ইদা: ৪৪, আবু দাউদঃ ৪৯৫৫, আন-নাসাঈ ৮/২২৬ সাহীহ, আত-তাবারী ১০/৩২১, বর্ণনা নং ১১৯৬০,১১৯৬৩; এবং ১০/৩৫৭, বর্ণনা নং ১২০৬২, আত-তাবারী, ১০/৩৫৭, বর্ণনা নং. ১২০৬। ফাতওয়া মুহাম্মদ ইবনে ইবরাহীম, ১২ খন্ড, ১২/২৭০, তাহকিমুল কাওয়ানিন, উমদাতুল ক্বারী, খন্ড ২৪, পৃঃ ৮১, আখবার উল কুদা, পৃঃ ৪১, আদ দুরার আস সানিয়া,১৬ খন্ড,পৃঃ ২৮, মাজমু’ আল-ফাতাওয়া, ৩৫/৩৬১-৩৬৩; পৃঃ ৩৭২,৩৮৩, খন্ড, ২৮, পৃ ১৯১, খন্ড ৪, বাব উল জিহাদ, খন্ড ৩৫, পৃ ৩৭৩, আদওয়াউল-বায়ান লিশ শানকিতি, ৭ম খন্ড, পৃঃ ১০১, খন্ড ৪, পৃষ্ঠা ৬৫, আহকাম আহল আয-যিম্মা, ১/২৫৯, জামি উল-আহকাম ফিল-কুর’আন, খন্ড ৫, পৃঃ ১৯০, তাফসির ইবন কাসির, দ্বিতীয় খন্ড, পৃষ্ঠা ৬৩-৬৭, সূরা মায়’ইদার তাফসীর আয়াত ৪০ থেকে ৫০ দ্রষ্টব্য।]
∎ পঞ্চম নাক্বদ (ঈমান ভঙ্গকারী বিষয়): অপছন্দের কুফর।
যে দ্বীনের বিধানের কোন কিছুকে (১) ঘৃণা করে কিংবা (২) কোন কারণে অস্বীকার করে অথবা (৩) ঈমানের মৌলিক কোন বিষয় সত্য হওয়ার বিষয়ে সন্দেহ করে, তবে সে কুফরী করল, যদিও সে এটা আমল করে।
“যারা কুফরী করেছে তাদের জন্যে রয়েছে দূর্ভোগ এবং তিনি তাদের কর্ম ব্যর্থ করে দিবেন।এটা এজন্যেযে, আল্লাহ যা অবতীর্ণ করেছেন তারা তা অপছন্দ করে। সুতরাং আল্লাহ তাদের কর্ম নিষ্ফল করেদিবেন।” [রেফারেন্স: সূরা মু’হাম্মাদঃ ৮-৯]
দ্বীনের স্পষ্ট যেকোনো বিষয় যেমন- কুরআনের কোনো একটি আয়াত, সালাত, যাকাত, হজ্ব, পর্দা, তাকদির, আখিরাত, জান্নাত-জাহান্নাম ইত্যাদি অস্বীকার করা অথবা এগুলোর ব্যাপারে সন্দেহ করা কুফর আকবার। যেমন- কাদিয়ানীরা খতমে নবুয়্যাত ও জিহাদকে অস্বীকার করার কারণে কাফির।
আর দ্বীনের কোন বিষয়কে অপছন্দ করার দুটি রূপঃ
❏ ১। শরি’য়াহর বিষয় হওয়ার কারণে ঘৃণা অর্থাৎ, শারিয়াতের বিধানকে অনুপযুক্ত/ অযৌক্তিক/ জুলুম/অনুচিত/ অনুত্তম/ পশ্চাৎপদ ভেবে ঘৃণা করা, তাহলে তা বড় কুফর, যা ব্যক্তিকে ইসলাম থেকে বের করে দেয়।যেমন- সুন্নাতি দাড়ি রাখা, পর্দা করা, একাধিক বিবাহের বিধান, চোরের হাত কাটার বিধান ইত্যাদি বিষয়কে অপছন্দ করা কুফর আকবর।
❏ ২। দ্বীনের কোন বিষয়কে অপছন্দ করা শরিয়াহর বিধান হওয়ার কারণে নয়, বরং সে তা অপছন্দকরে তার ফিতরাত/স্বভাবগত কারণে অর্থাৎ, দুনিয়াবি দুর্দশা-লাঞ্ছনা, ঝামেলা-বিরক্তি, ক্ষয়ক্ষতি, দুঃখ-কষ্ট ইত্যাদি কারণে; কিন্তু তা সত্য, ন্যায় ও সর্বোত্তম হিসেবে অন্তর থেকে স্বীকৃতি দেয়। এমন হলেএগুলো কুফর নয় । যেমন- শীতের রাতে ঠান্ডা পানির কারণে ওযু করতে অপছন্দ করা, শারঈ হুকুমের প্রতি ঘৃণা-অবজ্ঞাবশত অপছন্দ করে নয়।
একইভাবে দুনিয়াবি কারণে স্বামীর একাধিক বিবাহ অপছন্দ করা যে- এতে তার ভালোবাসা কমে যাবে,কিন্তু এই বিধানকে খারাপ মনে করে না, বরং সমাজের জন্য উত্তম নিয়ম হিসেবে স্বীকার করে, তাহলে এটা কুফর নয়। অর্থাৎ এটা ততক্ষণ পর্যন্ত কুফর হবে না, যতক্ষণ না সে শরিয়তের ঐ বিধানকে অনুপযুক্ত, অন্যায়, অনুত্তম-খারাপ, অযৌক্তিক, অচল-বাতিল ইত্যাদি মনে করে ঘৃণা করবে।’ [রেফারেন্স : সূরা মু’হাম্মাদঃ ৮-৯; তাফসির দ্রষ্টব্য, কাশফুল কিনা, ৬/১৬৮, বাহরুর রায়েক ৫/১৩১।]
∎ ষষ্ঠ নাক্বদ (ঈমান ভঙ্গকারী বিষয়): বিদ্রূপের কুফর।
দ্বীন ইসলামের যেকোন বিষয়, বিধান, চিহ্ন কিংবা বর্ণিত কোন পুরস্কার অথবা শাস্তি নিয়ে ঠাট্টা-বিদ্রূপ করলে, সেটা কুফর আকবর বা বড় কুফর যা ব্যক্তিকে ইসলাম থেকে বের করে দেয় ।
“আর যদি তাদেরকে জিজ্ঞেস করো, তবে তারা বলবে, ‘আমরা তো শুধু আলাপ-আলোচনা ও হাসি-তামাশা করছিলাম’।তুমি বলে দাও, তাহলে কি তোমরা ‘আল্লাহ, তাঁর আয়াতসমূহ এবং তাঁর রাসূলকে বিদ্রূপ করছিলে?’ তোমরা এখন ওজর দেখিও না, তোমরা তো ঈমান আনার পর কুফরী করেছ।” [রেফারেন্স:আত- তাওবাঃ ৬৫-৬৬]
আর ঠাট্টা- -অবমাননার কুফর চার ধরনের হয়ে থাকে:-
❏ ১. দ্বীনের কোন বিষয়-বিধান যেমন- সালাত, সাওম, হজ্ব, যাকাত, আযান, জিহাদ বা অনুরূপ বিষয় নিয়ে ঠাট্টা করা, যেই বিষয়গুলো দ্বীনের সুস্পষ্ট প্রতীক।এমন হলে তা বড় কুফর।
❏ ২. পরোক্ষ অবমাননার কুফর: যেমন : বেপর্দা-ফাহিসা, মিউজিক, নৃত্য বা হারাম প্রতিযোগিতায় দুআ চাওয়া, স্পষ্ট হারাম কাজে/হারাম ভক্ষণের পূর্বে ‘বিসমিল্লাহ’ বলা, কেউ মারা গেলে কিংবা বিপদে পড়লে যদি মনে করে- ‘আল্লাহ্ তাআলা জুলুম করেছেন বা কোনোভাবে আল্লাহ তাআলাকে দোষারোপ করা, আল্লাহ্ নির্ধারণ বা তাকদিরকে গালি দেওয়া, কারোর কুফরীতে খুশি হওয়া, কেউ কুফরী করুক এটা চাওয়া বা পছন্দ করা, এসবই কুফর।
❏ ৩. ওই ব্যক্তিকে ঠাট্টা করা, যে সুন্নাহর অনুসরণ করে ও শরিয়াহর আমল করে।তাহলে এক্ষেত্রে দুটি অবস্থা-
(ক) তার পালিত সুন্নাহ ও শারঈ বিষয়ের জন্য ঠাট্টা করা, যেমন সুন্নাতি দাড়ি রাখার জন্য ঠাট্টা করলে তা দ্বীনকে ঠাট্টা করা হবে।আর এটা বড় কুফর।
(খ) তার দ্বীন ব্যতীত ভিন্ন কোন বিষয়, ঘটনা, প্রসঙ্গ অথবা ব্যক্তিকে নিয়ে ঠাট্টা করা, তার মধ্যে থাকা দ্বীন ও সুন্নাহকে নিয়ে নয়।এটা ফিসক বা কবিরা গুনাহ কিন্তু কুফর নয়।
❏ ৪. ঠাট্টা অবমাননার কোনো উদ্দেশ্যই না থাকা বরং এটাকে ঘৃণা করা কিন্তু বেহুঁশ-অতি আনন্দে মুখ ফসকে, জিহ্বার অগ্রগামীতায় বলে ফেলা। এটা কুফর নয়, তবে সে অনুশোচনা করে আল্লাহর নিকটে ক্ষমা ও আশ্রয় চাইবে।
[রেফারেন্স: আত-তাওবাঃ ৬৫-৬৬; তাফসির দ্রষ্টব্য, মা-লা- বুদ্দা মিনহু, মাকতাবাতুর রহমানিয়াহ, লাহোর পৃ.১৩৮-১৩৯; আত তামহীদ ৪/২৭৮-২৭৯, আশ শিফা ২/১১০১-১১০৫ আস সারিমুল মাসলুল ৩/১১২১, ফাতাওয়া আল-লাজনা আদ-দায়িমা, ১ম খণ্ড, পৃ. ৩৮৭,]
একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তা: প্রত্যেক মুসলিমের জন্য আবশ্যক আল্লাহর দ্বীন এবং রাসূলের আনীতবিধানের ঠাট্টার কঠোর প্রতিবাদ করা। যদিও সে তার নিকট আত্মীয় হয়।আর এমতাবস্থায় তাদের সাথে বসা যাবে না, যাতে করে সে তাদের অন্তর্ভুক্ত না হয়ে যায়।
আল্লাহ তা’আলা বলেন, “এবং নিশ্চয়ই তিনি তোমাদের গ্রন্থের মধ্যে নিদের্শ করেছেন যে, যখন তোমরা আল্লাহর নিদর্শন -সমূহের প্রতি অবিশ্বাস করতে এবং তাঁর প্রতি ঠাট্টা-বিদ্রূপ করতে শুনবে, তখন তাদের সাথে বসবে না, যে পর্যন্ত না তারা অন্য কথার আলোচনা করে; অন্যথায় তোমরাও তাদের মতো হয়ে যাবে, নিশ্চয়ই আল্লাহ সে সমস্ত মুনাফিক ও কাফিরদেরকে জাহান্নামে একত্রিত করবেন।” [রেফারেন্স: আন-নিসাঃ ১৪০]
∎ সপ্তম নাক্বদ (ঈমান ভঙ্গকারী বিষয়): সিহর-যাদু।
যাদু বা সিহর করা এবং এর মাধ্যমে কারো উপকার অথবা ক্ষতি করা। যে তা করবে অথবা এটা করাকে পছন্দ করবে, সে এমন কুফর করল যা তাকে ইসলাম থেকে বের করে দিবে। ইমাম আহমাদ (রঃ) ও পূর্ব যুগীয় ওলামায়ের কিরামের একটি দল যাদুবিদ্যার শিক্ষার্থীদেরকে কাফির বলেছেন। হযরত বাজালাই বিন উবাইদ (রঃ) বলেনঃ হযরত উমার (রাঃ) তাঁর এক নির্দেশ নামায় লিখেছিলেনঃ যাদুকর পুরুষ বা স্ত্রীকে তোমরা হত্যা করে দাও। এ নির্দেশ অনুযায়ী আমরা তিনজন যাদুকরের গর্দান উড়িয়েছি। আর যাদুকরদেরকে হত্যা করার ব্যাপারে সাহাবীগণের মধ্যে কোন মতবিরোধ ছিলো না ।
❏ গণক, যাদুকর ও জ্যোতিষীদের নিকট কোনো প্রশ্ন করার জন্য যাওয়া কবিরা গুনাহ। এমনকি সে উত্তর-ভবিষ্যতবাণী বিশ্বাস না করলেও তা কবিরাহ গুনাহ। আর যে এমনটি করবে, চল্লিশ দিন তার সলাত কবুল হবে না ।রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেন, “যে ব্যক্তি গণকের কাছে যাবে এবং তাকে কোন কিছু প্রশ্ন করবে, চল্লিশ দিন তার সলাত কবুল হবে না।” [রেফারেন্স:সহীহ মুসলিম]
❏ আর যদি তাদের কথাকে সত্য মনে করে, বিশ্বাস করে তবে সে কুফর এবং শিরক করল। রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেন, “যে ব্যক্তি যাদুকর বা গণকের কাছে যাবে এবং তার কথা বিশ্বাস করবে তাহলে এর ওপর নাযিলকৃত বিধানকে অস্বীকার করল।” (মুসনাদে হাকীম, সনদ সহীহ)
❏ যাদু প্রতিরোধের হুকুম: আল্লামা ইবনুল কাইয়্যিম (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, “যাদুগ্রস্থকে যাদু মুক্ত করা দুই প্রকার। যথাঃ (১) অনুরূপ যাদুর মাধ্যমে যাদু মুক্ত করা।আর তা হচ্ছে শয়তানের কাজ ও কুফর। এটার ক্ষেত্রেই হাসান (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন, “যাদু প্রতিরোধকারী ও যাদু প্রতিরোধকৃত ব্যক্তি শয়তানের নিকট শয়তান যা ভালবাসে তাই পেশ করে, ফলে সে যাদুগ্রস্থ ব্যক্তির ওপর তার প্রভাব উঠিয়ে নেয় ।
(২) শারঈ ঝাঁড়ফুক বা রুকিয়্যাহ, কুরআন তিলাওয়াত, দুয়া-দরূদ ও চিকিৎসার মাধ্যমে যাদু প্রতিরোধ করা; আর তা জায়েয।’ [রেফারেন্স: সূরা বাকারাঃ ১০২, তাফসির ইবন কাসির দ্রষ্টব্য, সহীহ বুখারী হা: ৩১৫৬, বাদাইউল ফাওয়ায়েদ ২/২২৭।]
‘রুকিয়্যাহ শারিয়্যাহ’ সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে ‘যাদুকর ও জ্যোতিষীর গলায় ধারালো তরবারি’ -শাইখ আব্দুস সালাম বালি হাফি: কিতাবটি দেখা যেতে পারে।
∎ অষ্টম নাক্বদ (ঈমান ভঙ্গকারী বিষয়): সমর্থনের কুফর।
মুসলিমদের বিরূদ্ধে কাফির/মুশরিক/মুরতাদদের পক্ষ নেওয়া এবং মুসলিমদের বিরুদ্ধে তাদেরকে সাহায্য করা।অথবা ইসলাম, ইসলামি হুকুমাত এবং শারিয়াহ বাস্তবায়ন, জিহাদ-ক্বিতালের বিরুদ্ধে কাউকে (ইয়াহুদি-নাসারা, সেক্যুলার ও তাদের অনুগত বাহিনীসমূহকে) সাহায্য করা এমন কুফর যা ব্যক্তিকে ইসলাম থেকে বের করে দেয়।
❏ কাউকে মুসলিমদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে কিংবা যুদ্ধ করতে বাধ্য করা হলে, সে যুক্ত হয়ে কৌশলে কাফির ও মুরতাদদের ক্ষতি করার চেষ্টা করবে, নিজের ক্ষতি হয়ে গেলেও কোনো মুসলিমের ক্ষতি করবে না। এবং যুদ্ধের সময় এমন ব্যক্তিকে কোনো মুসলিম যোদ্ধা হত্যা করে ফেললে, তার জীবনের কোনো দিয়ত/রক্তমূল্য নেই।
❏ রাসূলুল্লাহ (সা.) কাফিরদের মধ্যে বসবাসকারী মুসলিমদের থেকে দায় মুক্তি ঘোষণা করেছেন। মুসলিমদের যুদ্ধাভিযানে কাফির দেশে কাফিরদের সাথে একত্রে বসবাসকারী মুসলিমরা হতাহত হলে, এর দায় মুসলিম সেনাপতির থাকবে না। সেনাপতি-মুজাহিদগণ চেষ্টা করবে ঐ সকল মুসলিমদেরকে এড়িয়ে যেতে, কিন্তু বাধ্য নয়।
[রেফারেন্স : [সুরা মায়েদা ৫:৫১, মুমতাহিনা ১-২, সূরা নিসা; ৯৭, আবু দাউদ; ২৬৪৫, তাফসীরে কুরতুবী ৮ম খণ্ড-৪৭ পৃষ্ঠা, আল মুহাল্লা, ১১ খন্ড, পৃঃ ৭১, মাজমুউল ফাতওয়া ১৮ খন্ডের ৩০০ পৃষ্ঠা, ২৮ খণ্ড, পৃষ্ঠা-৫০৯, ৫৩০-৫৩১, ৫৩৪, ৫৩৭, ৫৩৯-৫৪০, তাফসীরে তাবারী- ৩/২২৮, আর রাসায়েলুস শাকসিয়্যা, পৃঃ ২৭২, কালিমাতুল হাক্ব -আহমেদ শাকের, পৃষ্ঠা নং ১৩০-১৩১-১৩২, শারহু- সিয়ারিল কাবীর, পৃষ্ঠা নং-২৫৩-২৫৪]
∎ নবম নাক্বদ (ঈমান ভঙ্গকারী বিষয়): অবাধ্যতার কুফর।
যে ব্যক্তি এ বিশ্বাস করে যে, মুহাম্মাদ সা এর ওপর যে শরিয়াহ এসেছে তা হতে কারো কারো জন্য বের হওয়ার সুযোগ রয়েছে [যেমন- মূসা (‘আলাইহিস সালাম) -এর শরিয়াহ হতে খিযির (‘আলাইহিস সালাম) বাইরে ছিলেন], তাহলে এটা এমন কুফর যা ব্যক্তিকে ইসলাম থেকে বের করে দেয়। রাসূলুল্লাহ (সা.) এর ওপর অবতীর্ণ দ্বীন পূর্ববর্তী সকল দ্বীনকে এবং তাঁর মা এর ওপর অবতীর্ণ কিতাব পূর্ববর্তী সকল কিতাব ও বিধানকে রহিত করে দিয়েছে।এই দ্বীন পরিপূর্ণ এবং পূর্ণাঙ্গভাবেই স্বীকার ও গ্রহণ করতে হবে। [রেফারেন্স: [আল-আনয়ামঃ ১৫৩, আল-ইমরানঃ ৮৫]
ইমাম নাসায়ী সহ অন্যান্য ইমামগন রসূল হতে হাদীস বর্ণনা করেন যে, “রসূল একদিন উমার (রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু)-এর হাতে তাওরাতের একটি পাতা দেখতে পেলেন।অতঃপর তিনি বললেন, হে ইবনুল খাত্তাব এখনো কি সংশয়ে রয়েছ? আমি তোমাদের নিকট সুষ্পষ্ট বিধান নিয়ে এসেছি।ওই সত্তার কসম যার হাতে আমার প্রাণ, আজ যদি মূসা (আলাইহিস সালাম) জীবিত থাকতেন, আমার অনুসরণ করা ব্যতীত তাঁর কোন উপায় থাকত না।” [রেফারেন্স: আহমাদ, বায়হাকী; সনদ হাসান]
∎ দশম নাক্বদ (ঈমান ভঙ্গকারী বিষয়): বিমুখতার কুফর।
আল্লাহর দ্বীন থেকে মুখ ফিরিয়ে নেওয়া, দ্বীনের মৌলিক বিষয়ে জ্ঞান অর্জন না করা এবং সে অনুযায়ী আমলও না করা । দ্বীন থেকে বিমুখ হওয়া যখন কুফরী –
❏ ১। দ্বীনের মৌলিক বিষয় না জানা, যার দ্বারা মূলত একজন ব্যক্তি মুসলিম হয়।যেমনঃ ‘আল্লাহ এক, তাঁর কোনো শরিক নেই”, ‘সকল প্রকার তাগূত-মিথ্যা ইলাহকে বর্জন করা’ ‘একমাত্র গ্রহণযোগ্য দ্বীন হল ইসলাম এবং ঈমানের ছয়টি বিষয় জানা ও বিশ্বাস করা । ‘ইসলামের বিধিবিধান সর্বোত্তম, কিয়ামত পর্যন্ত প্রযোজ্য, কখনোই অনুপযুক্ত হবে না’।‘ইসলামই সঠিক, বাকি সব ধর্ম মিথ্যা’, ইত্যাদি মৌলিক বিষয়াদি জানার চেষ্টা না করা, না মানা, মুখ ফিরিয়ে রাখা।
❏ ২। দ্বীনের হালাল-হারাম, বিধিবিধান যার নিকটে কোনো গুরুত্ব বহন করে না, যেমনঃ দ্বীনের নির্দেশনা-বিধানকে গুরুত্ব না দেওয়ার দরুন- সুদ এবং ব্যবসাকে একই রকম বলা, বিবাহ ও যিনাকে একই রকম বলা, সালাত-সাওম বা কোনো ফরজ ইবাদাতকে তেমন গুরুত্বপূর্ণ কিছু মনে না করা, দ্বীনকে শুধু একটা ঐচ্ছিক দর্শন মনে করা বা অন্যান্য ধর্মের মতোই একটা ধর্ম মনে করা, দ্বীনের কথা বললে তা অনর্থক মনে করা, মুখ ফিরিয়ে রাখা, শারিয়াহর বিধিবিধানের গুরুত্ব স্বীকার না করে মুখ ফিরিয়ে চলা, তুচ্ছ ও সাধারণ-মামুলি বিষয় জ্ঞান করা ইত্যাদি।
আল্লাহ্ তাআলা বলেন, “আর যারা কাফির, যেসব জিনিস দিয়ে তাদেরকে সতর্ক করা হয়েছিল, তার থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়।” (আল-আহকাফঃ ৩)
[রেফারেন্স: আল-আহকাফঃ ৩, আস-সাজদাহঃ ২২, মাজমু আল-ফাতওয়াঃ ১/১১২-১১৩ পৃঃ, ইবনুল কাইয়্যিম (রাহিমাহুল্লাহ) “মাদারিজুস সালিকীন” গ্রন্থের “কুফরে আকবার পাঁচ প্রকার” এর আলোচনা দ্রষ্টব্য ]
এগুলো হল অধিক সংঘটিত দশটি কুফরে আকবার, এছাড়াও কিছু নাক্বদ অনেকে আলোচনা করেন
তবে সেগুলোও এই দশটির অন্তর্ভুক্ত।আরো বিস্তারিত জানতে নাওাকিদুল ইসলামের একাধিক শারহ এবং ফুকাহা-আইম্মাইয়ে কেরামের কুফর-রিদ্দাহ সংক্রান্ত কিতাব-অধ্যায় ও অলোচনা সমূহ দেখতে পারেন।
ওয়াল্লাহু ‘আলামু বিস সাওয়াব।
প্রিন্টের জন্য এখান থেকে ডাউনলোড করুন।
Download Link: ঈমান ভঙ্গের ১০ কারণ PDF Download




